<p><strong>নয়াদিল্লি:</strong> উৎসবের আগে হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। বুধবার উত্তরপ্রদেশের খুচরো বাজারে চিনির দাম কেজিতে ৬৫ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। গত ১৫ দিনে চিনির দাম ১৫টাকা বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্য়বসায়ীরা। তাঁদের দাবি, এই মুহূর্তে চাহিদার তুলনায় চিনির জোগান অর্ধেক। রাখিবন্ধন, গণেশ উৎসব, জন্মাষ্টমী, পুজো এবং দীপাবলির আগে চিনির দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। (Sugar Price Rising)</p>
<p><strong>চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী</strong></p>
<p>দেশের সর্বত্রই চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী। নিউ হায়দরাবাদের খুচরো ব্যবসায়ী সন্তোষ গুপ্ত জানিয়েছেন, দিন ১৫ আগেও ১৮-৫০ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি করছিলেন তাঁরা। ফতেগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী সঞ্জয় জয়সওয়ানি আবার জানিয়েছেন, এই প্রথম চিনির দাম কেজিতে ৬০ টাকা পেরোল। তাঁদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবছর চিনির উৎপাদন ৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী জোগান না থাকাতেই এত বৃদ্ধি দামে। (Sugar Market)</p>
<p><strong>আরও পড়ুন: <a title="উৎসবের আগেই চিনির দাম আগুন, চাহিদার তুলনায় নেই জোগান, ইথানল ব্লেন্ডিংয়ে বেশি মুনাফার দরুণই কি?" href="https://ift.tt/f7H6DtZ" target="_self">উৎসবের আগেই চিনির দাম আগুন, চাহিদার তুলনায় নেই জোগান, ইথানল ব্লেন্ডিংয়ে বেশি মুনাফার দরুণই কি?</a></strong></p>
<p><strong>চিনির চাহিদা বনাম জোগান</strong></p>
<p>‘চিনি মণ্ডি’র একটি রিপোর্ট বলছে, আখচাষ কিছু কম হয়নি। কিন্তু উৎপাদন কমেছে চিনির। এর কারণ ব্য়াখ্যা করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চিনিকলগুলি এই মুহূর্তে ইথানল উৎপাদনের দিকে বেশি ঝুঁকছে। ইথানলের জন্য বেশি পরিমাণ আখ বিক্রি করা হচ্ছে। তাতে মুনাফাও বেশি। ইথানল পেট্রোল এবং অ্যালকোহল উৎপাদনকারীদের চাহিদার জোগান দিতে গিয়ে চিনির উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে।</p>
<p><span style="font-weight: 400;">চিনির দাম বাড়লে উৎসবের মরশুমে মিষ্টির দামও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ মিষ্টি তৈরিতে যে যে উপাদান লাগে, তার মধ্যে ২০ শতাংশই চিনি। এক কেজি খোয়া ক্ষীর তৈরিতে চিনি লাগে ২০০ গ্রাম। কাঁচামালের দামই যদি বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রে মিষ্টির দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>আরও পড়ুন: <a title="রকেট আছড়ে পড়ে চাঁদের বুকে বিরাট গর্ত, কী অবস্থা হল পৃথিবীর উপগ্রহের? ছবি দেখাল NASA" href="https://ift.tt/2gruTy3" target="_self">রকেট আছড়ে পড়ে চাঁদের বুকে বিরাট গর্ত, কী অবস্থা হল পৃথিবীর উপগ্রহের? ছবি দেখাল NASA</a></strong></span></p>
<p><strong>কী করছে সরকার?</strong></p>
<p>চিনির দাম যে হারে বাড়ছে, জোগানে যে টান পড়ছে, তা মাথায় রেখে সরকারের তরফে চিনি মজুতের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। ব্যবসায়ীরা মাসে ১০ টনের বেশি চিনি মজুত করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নয়া নির্দেশ অনুযায়ী, ১৫ দিনের বেশি স্টক মজুত রাখতে পারবেন না তাঁরা। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বরের জন্য এই নির্দেশ কার্যকর। শুধু তাই নয়, জোগান অব্যাহত রাখতে আমদানিকৃত চিনির উপর থেকে ১০০ শতাংশ শুল্কই তুলে নেওয়ার ভাবনাও চলছে। </p>
<p>কিন্তু তার মধ্যেও চিনির দামবৃদ্ধি আটকানো যাচ্ছে না। চিনিতল থেকে প্রসেসিং মিলে যাওয়ার মধ্যেই প্রতি কুইন্টাল চিনির দাম ৫৪০০-৫৫০০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। এর পর পরিবহণ, কর এবং ডিলারের মার্জিন যুক্ত হচ্ছে। এর বছর আগেও ওই দাম ছিল ৩৯০০ টাকা। খুচরো বাজারে একবছর আগে প্রতি কেজিতে চিনির দাম ছিল ৪৬.৩৪ টাকা।</p>
<p>গত ১৮ অগাস্ট সেই দাম বেড়ে হয় কেজিতে ৫২.৩০। প্রতি বছর অগাস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যেই চিনির চাহিদা বেশি থাকে। উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখে এই সময় বেশি চিনি মজুত করে খাবার, পানীয়, বিস্কিট এবং কনফেকশনারি সংস্থাগুলি। সরকার মজুতের সীমা বেঁধে দেওয়ার পরও চিনির দাম কমেনি। আমদানিকৃত চিনির উপর থেকে শুল্ক তুলে নিলে, তাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় কি না, এই মুহূর্তে সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।</p>
<p><strong>ইথানল ব্লেন্ডিং</strong></p>
<p>তবে চিনির দাম কমা নিয়ে সন্দিহান Investment Information and Credit Rating Agency-ও। তাদের রিপোর্ট বলছে, ২০২৫-'২৬ অর্থবর্ষে ভারতে ৩.১১ কোটি টন চিনি উৎপাদন হতে পারে। কিন্তু তার মধ্যে ৩১ লক্ষ টন চিনি ব্যবহৃত হতে পারে ইথানল তৈরিতে। ফলে চিনির মোট উৎপাদন ২.৮ কোটিতেই আটকে যেতে পারে। অথচ পরিসংখ্য়ান বলছে, দেশের অন্দরে ২ কোটি ৮৩ লক্ষ টন চিনির চাহিদা থাকে। ইতিমধ্যে ৭ লক্ষ টন চিনি রফতানিও করেছে ভারত। ফলে দেশের অন্দরে চাহিদার জোগান দেওয়া হোক, অথবা বিদেশে রফতানি, চাহিদার তুলনায় জোগান পর্যাপ্ত নয়।</p>
<p>Investment Information and Credit Rating Agency-র হিসেব বলছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ ভারতের মজুত রাখা চিনির পরিমাণ কমে ৪৩ লক্ষ টন হতে পারে। অথচ আগের বছর এই সময় মজুত রাখা চিনির পরিমাণ ছিল ৫৩ লক্ষ টন। অর্থাৎ চিনির মজুত কমেছে অনেকটাই।</p>
<p><span style="font-weight: 400;">ভারতে চিনি উৎপাদনে যে পরিবর্তন চোখে পড়ছে, তাতে ইথানল ব্লেন্ডিং প্রকল্পের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চিনিকলগুলি শুধুমাত্র চিনি উৎপাদন করছে না আর। আখ এবং চিনিভিত্তিক অন্য কাঁচামালের উপর জোর দিচ্ছে তারা, যা ইথানল তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ভারত ১৯.২৪ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়েছে। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে সেই লক্ষ্যমাত্রা ২০ শতাংশ। পাশাপাশি, ইথানল উৎপাদনেও আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম ভারত, যার দরুণ চিনিকলগুলি আয়ের নতুন রাস্তা খুঁজে পেয়েছে। ইথানল তৈরিতে চিনিও বেশি লাগে, তা থেকে মুনাফাও বেশি হয় তাদের। </span></p>
<p><iframe title="YouTube video player" src="https://www.youtube.com/embed/PKwLsAu-z10?si=CREnlsubbM69ONas" width="560" height="315" frameborder="0" allowfullscreen="allowfullscreen"></iframe></p>
from india https://ift.tt/f7H6DtZ
via IFTTT
0 Comments