<p><span style="font-weight: 400;"><strong>নয়াদিল্লি:</strong> আমেরিকার মসনদে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিরতেই শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ। না, বিশ্বযুদ্ধ নয়, বাণিজ্যযুদ্ধ। আর তাতে মুখোমুখি দুই তাবড় শক্তিশালী দেশ আমেরিকা ও চিন। চিনা পণ্যের উপর সম্প্রতি ১০ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প। এর পাল্টা আমেরিকার পণ্যের উপর শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করল চিন। (Trade War)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">চিন জানিয়েছে, আমেরিকার কয়লার উপর ১৫ শতাংশ, তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর ১৫ শতাংশ এবং অশোধিত তেল, কৃষি যন্ত্রাংশ এবং বড় ইঞ্জিনের গাড়ির উপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসাবে তারা। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকার পণ্যের উপর শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে চিন। (US China Tariff War)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">শুধু তাই নয়, চিনের বাণিজ্য মন্ত্রক এবং শুল্ক বিভাগ টাংস্টেন, টেলিরিয়াম, রুথেনিয়াম, মলিবডেনাম, এবং রুেথেনিয়াম-যুক্ত পণ্যের আমদানি-রফতানিও নিয়ন্ত্রণ করতে চলেছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে চিন। পাশাপাশি, Google-এর বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করছে বেজিং। </span></p> <p><span style="font-weight: 400;">এমনিতে Google-এর সার্চ ইঞ্জিন এবং অন্য প্ল্যাটফর্মগুলি চিনে নিষিদ্ধ। কিন্তু স্থানীয় কিছু বিজ্ঞাপন সংস্থার সঙ্গে কাজ করে Google. Google-এর বিরুদ্ধে একাধিপত্য স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে চিনে। আমেরিকার শুল্কের জবাব দিতেই এমন কৌশল বলে মত কূটনীতিকদের একাংশের। পাশাপাশি, টাংস্টেন, টেলুরিয়াম, বিসমাথ, ইন্ডিয়াম, মলিবডেনাম এবং সেই সংক্রান্ত যে সব ধাতুর রফতানি নিয়ন্ত্রণ করার কথা জানিয়েছে চিন, তাও গুরুত্বপূর্ণ। </span></p> <p><span style="font-weight: 400;">টাংস্টেন, টেলুরিয়াম, বিসমাথ, ইন্ডিয়াম এবং মলিবডেনাম এবং তাদের সম্পর্কিত পণ্য। সৌর প্যানেল তৈরিতে, পরমাণু গবেষণায় এবং গোলা-মর্টার তৈরিতে ওই সব ধাতু ব্যবহৃত হয়। ২০১৫ সালেই আমেরিকায় টাংস্টেনের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, বিসমাথ ১৯৯৭ সালে। তাই ওই সব ধাতুর জন্য চিনের উপর নির্ভরশীল আমেরিকা। সেগুলি যদি রফতানি বন্ধ করে দেয় চিন, সেক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হবে আমেরিকাকে।</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">মঙ্গলবার থেকে চিনা পণ্যের উপর চড়া শুল্ক কার্যকর করেছে ট্রাম্প সরকার। বেআইনি ভাবে আমেরিকার বাজারে ফেন্টানাইল ওষুধ জুগিয়ে যাওয়ার দরুণই চিনের উপর শুল্কের খাঁড়া বলে যদি দাবি আমেরিকার, কিন্তু এর নেপথ্যে ট্রাম্পের অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁদের মতে, একাধিক দেশের উপর শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করে ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলে দিয়েছেন ট্রাম্প। শেয়ার বাজারে ধস নেমেই চলেছে। এতে আসলে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা উপকৃত হচ্ছেন। আগেভাগে তাঁদের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সেই মতো শেয়ার বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছেন তাঁরা।</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">দুই প্রবল শক্তিধর রাষ্ট্র তথা দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে এই শুল্ক-যুদ্ধ, সশস্ত্র যুদ্ধের চেয়ে কিছু কম নয় বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। যেভাবে চিনা পণ্যের উপর ট্রাম্প শুল্ক চাপিয়েছেন, তা World Trade Organisation-এর নীতির পরিপন্থী বলে আগেই দাবি করে বেজিং। সেই মতো আমেরিকার পণ্যের উপর শুল্ক বসানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল তারা। এবার তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হল। আর তাতেই অশনি সঙ্কেত দেখছেন অনেকে। </span></p> <p><span style="font-weight: 400;">অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের এই আশঙ্কা একেবারেই অমূলক নয়। কারণ আমেরিকার অন্দরেই এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস উওম্যান ইলহান ওমরের কথায়, “সাংবিধানিক সঙ্কট উপস্থিত হয়েছে। প্রথম দিন থেকে বলে আসছি, ট্রাম্প স্বৈরাচারী হতে চান। আজ এই জায়গায় এসে পৌঁছেছি। স্বৈরতন্ত্রের সূচনা এভাবেই হয়। ট্রাম্প, ইলন মাস্ক এবং পুঁজিপতিরা কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। টাকা আমাদের, কোথায় টাকা যাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও আমাদের।”</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">চিনের পাশাপাশি, কানাডা এবং মেক্সিকোর উপরও ২৫ শতাংশ করে শুল্ক বসানোর ঘোষণা করেন ট্রাম্প। যদিও শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত সাময়িক পিছিয়ে দেন তিনি। আপাতত আগামী একমাস ওই দুই দেশের উপর শুল্ক চাপাচ্ছে না আমেরিকা। সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা চলছে যেহেতু, দুই দেশই যথোপযুক্ত ব্য়বস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে যেহেতু, তাই আপাতত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা থেকে পিছিয়ে এসেছেন ট্রাম্প। ব্রিটেন এবং BRICKS দেশগুলির উপরও শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প, যার মধ্যে রয়েছে ভারতও। পাশাপাশি, গ্রিনল্যান্ড, পানামা-সহ আরও একাধিক দেশের উপর শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইউরোপের শেয়ার বাজারে ইতিমধ্যেই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। </span></p> <p><span style="font-weight: 400;">তবে এখনও সময় আছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ। কারণ আগামী সপ্তাহে ট্রাম্পের এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের মধ্যে কথা হবে। আমেরিকার উপর শুল্ক কার্যকর করতে এক সপ্তাহ সময় নিয়েছে চিন। তাই পারস্পরিক সমঝোতার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা ভেবে আশঙ্কার মেঘ ইউরোপ এবং এশিয়ার দেশগুলিতেও।</span></p>
from india https://ift.tt/nhK0f4A
via IFTTT
0 Comments