Ideas of India: চাকরি যাওয়ার ভয় থেকে প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়- কীভাবে জয় করা যায়? এবিপির Ideas of India-এ জানালেন গৌরাঙ্গ দাস

<p><strong>নয়া দিল্লি:</strong> আইআইটির ছাত্র থেকে কৃষ্ণ ভক্তি ছড়িয়ে দেওয়া। মনকে স্থিত করার জন্য যা কাজ করার তা শিখিয়ে চলেছেন। ২২ বছরেই জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছিল একটি দুর্ঘটনায়, যদিও সেই সময় সঙ্গী ছিল গীতার সেসব বাণী। এবিপি নেটওয়ার্কের Ideas of India- এ ISKCON-এর গোর্বধন ইকোভিলেজের ডিরেক্টর গৌরাঙ্গ দাস রোমন্থন করেন সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি। তিনি বলেন, 'ওই দুর্ঘটনা থেকে যখন ফিরেছি তখন ভেবেছি যার জন্য এই জীবন পেলাম, জীবনের বাকি অংশ তাঁর জন্যই কাজ করে যাব। গীতার এই জ্ঞান সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজের সিদ্ধান্ত নেই। শারীরিক ব্যথা কমানোর জন্য যেমন হাসপাতালের প্রয়োজন, মানসিক যন্ত্রণা কমানোর জন্য তেমন মন্দির প্রয়োজন। মন্দির হল মনের জন্য হাসপাতাল।'&nbsp;</p> <p>ইসকন মহারাজের একাধিক বই এবং বক্তব্যে মানুষের মনের বদলের বিষয়টি শোনা যায়। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি যখন আইআইটি-তে পড়াশোনা করছি সেই সময় একজন বন্ধু আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। তখন এত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটত না। তবে ওটাই আমার জীবনে টার্নিং পয়েন্ট। গীতাতে পড়েছিলাম, স্ট্রেসের কারণটা কি? আসলে প্রত্যাশা এবং বাস্তবের চাহিদার যে গ্যাপ, এবং আইডেন্টিটি ভেঙে গেলে তখন সবচেয়ে বেশি ভয় তৈরি হয়। সেখান থেকেই স্ট্রেস। আর গীতায় সেই স্ট্রেসকেই জয় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। গীতা সবসময়ই অভয় দান করে যায়। এটা হল সেই ম্যানুয়াল যা ভয়কে জয় করতে সাহস দেয়।'&nbsp;</p> <p>প্রশ্ন আসে, এই ভয়ই তো থাকে আমাদের প্রত্যেকের জীবনে। কারওকে হারিয়ে ফেলার ভয়, চাকরি যাওয়ার ভয়, পরিবারে নানা ভয়। কীভাবে এই অবস্থায় নিজেকে স্ট্রেস-ফ্রি রাখা যায়? গৌরাঙ্গ দাসের কথায়, 'গীতা একটি বিরাট সাহিত্য। অনেকেই এটিকে অতটা গুরুত্ব দেয় না। প্রতি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই বই মহামূল্য।'&nbsp;</p> <p>বর্তমান সময়ে চাকরি ক্ষেত্রে, পরিবারে নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় সকলকে। কীভাবে মন শান্ত রেখে সবটা ঠিক রাখা যায়? এ প্রশ্নের উত্তরে গৌরাঙ্গ দাস বলেন, 'মানসিক চিন্তা একটা রোগ হয়ে যাচ্ছে। এই রোগের জেরেই এখন সকলে মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এত হৃদরোগ, ক্যানসার, স্থূলতার সমস্যা হচ্ছে তাই। গীতায় দেখা যাচ্ছে অর্জুনের সামনে যখন দুর্যোধন, ভীষ্ম, দ্রোণাচার্য আসছে তখন তাঁর নিজের মধ্যেই আত্মপরিচয়ের যুদ্ধ চলছে। অথচ তিনি ধনুর্বিদ্যা, যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী। যখন কেন এই যুদ্ধ, এই উত্তর খুঁজে চলেছেন তিনি, তখনই শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে উপদেশ দেন। আমরা কেন এর উত্তর খুঁজতে গিয়েই ডিপ্রেশনে চলে যাই। গীতা হল অ্যান্টিডিপ্রেশন। বিষাদ চলে যায়।&nbsp;</p> <p>আধ্যাত্মিকতার পথে যেতে হলে কী কী ত্যাগ করতে হয়? &nbsp;</p> <p>গৌরাঙ্গ দাসের কথায়, 'গীতায় বলা হয়েছে, 'কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন। মা কর্মফলহেতুর্ভুমা তে সঙ্গোহত্ত্বকর্মণি।। অর্থ- কর্মেই তোমার অধিকার আছে; কিন্তু কর্মফলে তোমার কোনও অধিকার নেই। কর্মের ফল লাভ যেন তোমার কর্ম করার উদ্দেশ্য না হয়া। কিন্তু সেই জন্যে কর্ম ত্যাগ করে কর্মহীন হবে না। ভয়, প্রত্যাশা, কর্তব্য এবং শেষে ভালবাসা- এটা সব জায়গায় থাকে। যে কোনও জায়গায় নি:স্বার্থ সেবার দরকার। নিজের জায়গা না বদলে, নিজেকে বদলানো দরকার। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- যখন আমাদের সামনে বড় বিল্ডিং দেখি মনে হয় কীভাবে পাড় করব, অথচ সেই বিল্ডিংকেই যখন ফ্লাইট থেকে দেখি মনে হয় কত ছোট। অর্থাৎ আমাদের দৃষ্টিকোণ সঠিক করাটা দরকার'।&nbsp;</p>

from india https://ift.tt/sWeZn72
via IFTTT

Post a Comment

0 Comments

Ideas of India 2026: 'প্রথমে না করে দিয়েছিলাম, কিন্তু..., 'বর্ডার' ছবির স্মৃতিচারণায় সুনীল শেট্টি