<p><span style="font-weight: 400;"><strong>নয়াদিল্লি:</strong> ভারতের মতো দেশে ছোট থেকে টাকা-পয়সা সামলানোর শিক্ষা দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে CIBIL স্কোর নিয়ে এখনও মাথা ঘামান না অনেকেই। তবে পরিস্থিতি এমন হতে চলেছে যে CIBIL স্কোর ঠোঁটস্থ করতে হতে পারে ভারতের সাধারণ মানুষকে। কারণ মাপকাঠিতে উতরোতে না পারলে ঋণ পাওয়া দুষ্কর হতে পারে। (CIBIL Score and Bank Loan)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে CIBIL স্কোর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। হোমলোন হোক বা কার লোন, অথবা ছেলেমেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য ঋণ, সব ক্ষেত্রেই CIBIL স্কোরের মাপকাঠিতে উতরোতে হতে পারে সকলকে। Reserve Bank of India-র Expected Credit Loss Direction 2026 অন্তত তেমনই বলছে। (RBI CIBIL Score Rule)</span></p>
<p><strong>বদলে যাচ্ছে ঋণ পাওয়ার নিয়ম-কানুন</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আগামী বছর এপ্রিল মাস থেকে নয়া নিয়ম চালু হতে চলেছে গোটা দেশে। এই নিয়ম কার্যকর হলে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাওয়ার রীতিনীতিই পুরোপুরি পাল্টে যাবে। সাধারণ মানুষের জীবনে এর বড় প্রভাব পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বর্তমানে যে নিয়ম চালু রয়েছে, তার আওতায় কেউ যখন ঋণ নিয়ে শোধ করতে পারেন না অথবা ৯০ দিন পরও কিস্তির টাকা জমা দেন না, তাতে টনক নড়ে ব্য়াঙ্কগুলির। সেই অনাদায়ী ঋণ অনুৎপাদক সম্পদে পরিণত হয়। ওই ক্ষতি সামাল দিতে ব্যাঙ্ক নিজের কিছু টাকাই আলাদা ভাবে বরাদ্দ রাখে। </span></p>
<p><strong>কারা ঋণ পাবেন সহজে, কারা পাবেন না</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু Expected Credit Loss Direction 2026-এর নয়া নিয়মে এতদিনের রীতি বদলে যেতে পারে। কাকে ঋণ দিলে টাকা ডুবে যেতে পারে, আগে থেকে বুঝতে হবে, সে মতো নিজের পকেট থেকে টাকা আলাগা রাখতে হবে। দু’টি কিস্তি না জমা পড়লেই আগের তুলনায় ১২ গুণ টাকা আলাদা রাখতে হবে ব্যাঙ্কগুলিকে, তাও আবার মূল ব্যবসার বাইরে। এর ফলে ব্যাঙ্কের মুনাফা কমে যেতে পারে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">নয়া নিয়ম অনুযায়ী, ঋণের কিস্তি জমা পড়তে যদি ১ থেকে ৩০ দিন দেরি হয়, সেক্ষেত্রে ২৫০০০ টাকা আলাদা রাখতে হবে ব্যাঙ্ককে, আগে যা ছিল ১০০০০ টাকা। ৩১ থেকে ৬০ দিন দেরি হলে ১.২৫ লক্ষ অর্থাৎ ১২ গুণ বেশি টাকা আলাদা রাখতে হবে। আগে এই অঙ্কও ছিল ১০০০০। ৯১ দিন দেরি হলে ৫ লক্ষ টাকা আলাদা রাখতে হবে। আগে ওই অঙ্ক ছিল ৩.৭৫ লক্ষ টাকা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><iframe title="YouTube video player" src="https://www.youtube.com/embed/4uEQwTh2X_s?si=Z1KGcmhNwq6IC4HB" width="560" height="315" frameborder="0" allowfullscreen="allowfullscreen"></iframe></span></p>
<p><strong>ঋণ পেতে সিবিল স্কোরের ভূমিকা</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বর্তমানে ভারতে যাঁরা ঋণের আবেদন করেন, তাঁদের ৬২ শতাংশেরই CIBIL স্কোর ৭৩০-এর নীচে। RBI-এর নয়া নিয়ম কার্যকর হলে যাঁদের CIBIL স্কোর ৭৩০-এর উপর, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দেবে ব্যাঙ্ক। যাঁদের CIBIL স্কোর ৭৩০-এর নীচে, তাঁদের বাকিদের তুলনায় চড়া হারে সুদ দিতে হতে পারে, অথবা বেশি কোলাটেরাল বা গ্যারান্টি দিতে হেব তাঁদের।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ব্যাঙ্ক যদি মনে করে কারও CIBIL স্কোর কম এবং ঋণখেলাপের সম্ভাবনা রয়েছে, তাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ করতে পারে ব্যাঙ্ক, ১) ঋণের আবেদন খারিজ করতে পারে, ২) ঋণ দেওয়া হলেও সুদের হার বাড়ানো হতে পারে, ৩) সম্পত্তি, সোনা চাওয়া হতে পারে কোলাটেরাল হিসেবে অথবা গ্যারান্টার আনতে হবে।</span></p>
<p><strong>কী ভাবে ঝুঁকি হিসেব করবে ব্যাঙ্ক? </strong></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;">গ্রাহকের রেকর্ড খতিয়ে দেখা হতে পারে। </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">আগে কখনও EMI মেটাতে দেরি হয়েছে কি না, দেখবে ব্যাঙ্ক। </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">CIBIL স্কোর আগের কয়েক মাসে ওঠাপড়া করেছে কি না, CIBIL স্কোর বেড়েছে না কমেছে, তাও দেখা হতে পারে। </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">স্থায়ী আয় রয়েছে কি না, দেখতে পারে ব্যাঙ্ক। </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">চাকরি যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কি না, দেখা হবে তাও। </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">যে সম্পত্তি কেনার জন্য ঋণের আবেদন করা হয়েছে, তার বাজারমূল্য এবং ঋণের মূল্যের তুল্যমূল্য বিচার করবে ব্যাঙ্ক। </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">আগে থেকে কোনও ঋণ রয়েছে কি না, ক্রেডিট কার্ডের বিল বাকি আছে কি না, দেখা হবে তাও। </span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ যাঁদের CIBIL স্কোর ৭৩০-এর উপরে থাকবে, তাঁদের ঋণ পেতে তেমন সমস্যা হবে না, বরং অগ্রাধিকার পাবেন। দেশের ৩৮ শতাংশ গ্রাহক এর আওতায় চলে আসতে পারেন। গোটা দেশে ৭ কোটি এমন গ্রাহক রয়েছেন, যাঁদের CIBIL স্কোর ভাল। এতে ব্যাঙ্কের ঝুঁকি কমলেও, সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।</span></p>
<p> </p>
from india https://ift.tt/nw9W4cI
via IFTTT
0 Comments