<p><span style="font-weight: 400;"><strong>কোচি:</strong> তরতাজা ছেলে আত্মঘাতী হওয়ায় ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু ছেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি একেবারেই। তাই নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। আর তাতেই শিউরে ওঠার মতো তথ্য হাতে পেলেন মা-বাবা। স্কুলে ছেলেকে চরম হেনস্থা করা হয়, ব়্যাগিংয়ের নামে অত্যাচার চালানো হয় বলে জানতে পারলেন তাঁরা। সেই তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। (Kerala Ragging Death)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">সপ্তাহ খানেক আগে, মিহির আহমেদ নামের কেরলের কোচির বাসিন্দা, ১৫ বছরের এক কিশোর আত্মঘাতী হয়। স্কুলে ব়্যাগিংয়ের শিকার হয়েই সে এমন চরম পদক্ষেপ করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই কিশোরের মা। ইনস্টাগ্রামে এ নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, চরম হেনস্থা করা হয় তাঁরল ছেলেকে। গালিগালাজ থেকে মারধর, এমনকি টয়লেট সিটও চাটতে বাধ্য করা হয়। এভাবে হেনস্থার শিকার হয়েই ছেলে চরম পদক্ষেপ করে বলে দাবি মায়ের। (Kerala News)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">ছেলের উপর অত্যাচারের কাহিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন রাজনা পিএম। তিনি জানিয়েছেন, “ওর (ছেলের) মৃত্যুর পর স্বামী এবং আমি তথ্য জোগাড় করতে নামি। কেন এমন পদক্ষেপ করল মিহির, জানার চেষ্টা করি। ওর বন্ধু, সহপাীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ার কথোপকথনও খতিয়ে দেখি। তাতে ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা জানতে পারি। জানতে পারি, কী নিদারুণ অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে ওকে। নিষ্ঠুর অত্যাচার চালানো হয় ওর উপর, হেনস্থা করা হয়, শারীরিক নির্যাতনও চালায় স্কুলের পড়ুয়াদে একটি দল। স্কুলের ভিতরে এবং বাসেও ওরা হেনস্থা করে আমার ছেলেকে।”</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">ওই মহিলার বক্তব্য, “আমরা যা তথ্য পেয়েছি, তা ভয়ঙ্কর। মিহিরকে মারধর করা হয়, গালিগালাজ করা হয়। শেষ দিনেও কল্পনাও করা যায় না এমন হেনস্থার শিকার হতে হয় ওকে। জোর করে শৌচাগারে নিয়ে যাওয়া হয়, টয়লেট সিট চাটানো হয় ওকে দিয়ে। এর পর টয়লেটে মাথা ঢুকিয়ে ফ্লাশ করে দেওয়া হয়। এই অত্যাচার সহ্য করতে পারেনি। ভেঙে পড়ে ছেলে।”</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে চিঠি লিখেছেন ওই কিশোরের মা-বাবা। কেরলের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারি আত্মঘাতী হয় মিহির। স্কুল থেকে ফেরার এক ঘণ্টা পর কোচিতে ২৬ তলার ফ্ল্যাট থেকে নীচে ঝাঁপ দেয়। ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়েছেন মিহিরের মা-বাবা। তাঁর দাবি, গায়ের রংয়ের জন্যই ছেলেকে হেনস্থা করা হয়। তাঁর বক্তব্য, “ছেলের মৃত্যুর পরও নৃশংসতা বন্ধ হয়নি। চ্যাটের স্ক্রিনশট পেয়েছি আমি, তাতে ছেলেকে ‘নিগ্রো’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওর মৃত্যুও উদযাপন করা হয়।” </span></p> <p><span style="font-weight: 400;">মিহিরের মৃত্যুর তদন্ত চেয়ে, দোষীদের শাস্তি চেয়ে ‘Justice for Mihir’ নামে ইনস্টাগ্রাম পেজ শুরু করেন পরিবারের ঘনিষ্ঠরা। পরে যদিও ওই পেজ মুছে দেওয়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষকেও কাঠগড়ায় তুলছেন অনেকে। পরিবারের কারও অনুরোধ তোয়াক্কা করা হচ্ছে না, এমনকি পড়ুয়াদের মুখ খুলতে বারণ করা হচ্ছে বলেও দাবি উঠছে। কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবনকুট্টি এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।</span></p>
from india https://ift.tt/sGSQCep
via IFTTT
0 Comments