<p><span style="font-weight: 400;"><strong>নয়াদিল্লি:</strong> বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে উল্লেখ করায় জোর বিতর্ক। NCERT-র বিতর্কিত পাঠ্যবইয়েরক বিক্রিই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কে বা আর এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতেও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আর সেই আবহেই আদালত সংক্রান্ত একটি পরিসংখ্যান নিয়ে শোরগোল। কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ৮৬০০-র বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। (NCERT Book Row)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">চলতি বছরের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রকের তরফে লোকসভায় যে পরিসংখ্যান পেশ করা হয়, তাতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য় সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পদে আসীন বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ৮৬০০-র বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালেই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়ে, ১১৭০টি। ২০২৫ সালে ১১০২টি অভিযোগ জমা পড়ে। ২০১৯ সালে ওই সংখ্যা ছিল ১০৩৭ এবং ২০২২ সালে ১০১২। ২০২০ সালে সবচেয়ে কম অভিযোগ জমা পড়ে, ৫১৮টি। (Supreme Court)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">সম্প্রতি NCERT-র দ্বারা প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ে দেশের বিচারবিভাগের বিভিন্ন বিভাগকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে উল্লেখ করা হয়। লক্ষ লক্ষ মামলা জমে থাকায় কাজকর্মে ঢিলেমির কথাও উল্লেখ করা হয় বইয়ে। সেই নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছয়। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান, কয়েক দিন দেখবেন তিনি। তার পর স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করবেন। বিচারব্যবস্থার অপমান, বিচারব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা বরদাস্ত করবেন না কোনও ভাবেই। এর পরই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের তরফে বিতর্কিত ওই পাঠ্যবইয়ের বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। </span></p> <p><span style="font-weight: 400;">তবে বিতর্ক সেখানেই থামছে না। বৃহস্পতিবারও বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। CJI সূর্যকান্ত জানান, কেন্দ্রীয় সরকার এবং NCERT, দুই পক্ষের ঘাড়েই এর দায় বর্তায়। তিনি বলেন, “কে বা কারা এর জন্য দায়ী, খুঁজে বের করতে হবে।” পাশাপাশি বিশেষ একটি অংশ বা নির্দিষ্ট কোনও অধ্যায় নয়, গোটা বইটিই নিষিদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। </span></p> <p><span style="font-weight: 400;">সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ১) কেন্দ্র, রাজ্য এবং NCERT-কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রকাশিত প্রত্যেকটি বই, হার্ড কপি হোক বা ডিজিটাল সংস্করণ, কারও নাগালে যেন না পৌঁছয়, তা দেখতে হবে। দোকান, স্কুল, অনলাইন মাধ্যম, সব জায়গা থেকে তুলে নিতে হবে বই। কোও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। ২) বিভিন্ন স্কুলে পাঠানো সমস্ত বই বাজেয়াপ্ত করার দায়িত্ব NCERT-র ডিরেক্টর দীনেশ প্রসাদ সাকলানির। সেই মতো রিপোর্টও জমা দিতে হবে। প্রত্যেক রাজ্যের প্রধান শিক্ষাসচিবকে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে এবং রিপোর্ট জমা দিতে হবে দু’সপ্তাহের মধ্যে। একেবারে স্পষ্ট নির্দেশ, প্রতীকী প্রত্যাহার নয়, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হবে। ৩) বিতর্কিত বইটি ক্লাসে পড়ানে যাবে না, না পাঠ্যবইটি হাতে নিয়ে, না তার ডিজিটাল সংস্করণের মাধ্যমে। কোথাও যদি একটি বইও পাওয়া যায়, তা শ্রেণিকক্ষে পড়াতে নিয়ে যেতে পারবেন না শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ঘুরপথেও কোনও ভাবে ওই বই থেকে পড়ানো যাবে না। ৪) সব দিক বিবেচনা করে পাঠ্যবইটি ছাপা, বিতরণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হল। হাতে হাতে বিলি হোক বা ডিজিটাল সংস্করণের বিতরণ, কোনও ভাবে বইটি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে, তা ইচ্ছাকৃত ভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য বলে গণ্য হবে। কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে সেক্ষেত্রে। ৫) বইয়ের বিতর্কিত অধ্যায়টি যাঁদের হাত ধরে রূপায়িত হয়, সেই সময় নাম, পরিচয় জানাতে হবে NCERT-কে। ওই অধ্যায়টি নিয়ে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল, তার প্রতি মিনিটের কথোপকথন লিখিত আকারে পেশ করতে হবে আগামী শুনানিতেই। স্কুল শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং NCERT-র ডিরেক্টরকে শো-কজ নোটিস ধরানো হয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে, আদালত অবমাননা-সহ অন্য আইনে কেন মামলা হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছে। </span></p> <p><span style="font-weight: 400;">সাম্প্রতিক কালে স্কুলের পাঠ্যবই নিয়ে এমন কড়া পদক্ষেপ করেনি দেশের <a title="সুপ্রিম কোর্ট" href="https://ift.tt/Cjb6KcX" data-type="interlinkingkeywords">সুপ্রিম কোর্ট</a>। বিতর্ক যে এই আকার ধারণ করবে, তার আঁচ পাওয়া যায়নি গোড়ায়। তবে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে ইচ্ছাকৃত ভাবে নিশানা করা হয়েছে কি না,সেই প্রশ্ন যেমন উঠছে। অন্য আর এক পক্ষ প্রশ্ন তুলছেন, দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতির বাড়ি থেকে কোটি কোটি উদ্ধার হতে দেখেছে গোটা দেশ। তার পরও বিচারব্যবস্থা কি প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকে?</span></p>
from india https://ift.tt/VQnbjrC
via IFTTT
0 Comments