<p><strong>কলকাতা:</strong> ভারতের ‘মোগলি গার্ল’ নামে পরিচিত এহসাসের জীবনসংগ্রামের শেষ হল মাত্র ১৮ বছর বয়সে । ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলার কাতারনিয়াঘাট অভয়ারণ্য থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় লোকালয়ে । জঙ্গলে দীর্ঘদিন কাটানোর ফলে সাধারণ মানুষের সহজাত আচরণ সে জানতই না । উদ্ধার হওয়ার সময় সে দুই হাত ও দুই পায়ের সাহায্যে চলাফেরা করত । এ ছাড়াও মানুষের ভাষা বা সামাজিক আচরণের সঙ্গে তেমন পরিচিত ছিলেন না ।</p>
<p>উদ্ধারের পর বাহরাইচের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি তার পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেয় । তখন তার নাম রাখা হয় পূজা । পরে তাকে লখনউয়ের ‘নির্বাণ বালগৃহ’-এ স্থানান্তর করা হয় । সেখানে পূজার নতুন নাম দেওয়া হয় এহসাস । দীর্ঘ চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তিনি মানুষের সমাজে মানিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন । পোশাক পরা, পরিচিত মানুষকে চেনা এবং স্নেহ-ভালোবাসার প্রতি সাড়া দেওয়ার মতো একাধিক পরিবর্তন তার মধ্যে দেখা গিয়েছিল । যিনি এহসাসের দেখাশোনা করতেন, তাঁকেও ‘আম্মা’ বলে ডাকত সে । </p>
<p><iframe title="YouTube video player" src="https://www.youtube.com/embed/PKwLsAu-z10?si=iULrpa2r4H-Arqd-" width="560" height="315" frameborder="0" allowfullscreen="allowfullscreen"></iframe></p>
<p>তবে কয়েক দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে । তারপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে । গত ১৫ জুন অসুস্থতা বাড়লে তাকে দ্রুত লখনউয়ের রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয় ভারতের ‘মোগলি গার্ল’-এর । ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে সৃষ্ট সেপ্টিসেমিয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে এহসাসের । </p>
<p>বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন জঙ্গলের পরিবেশে বসবাসকারী মানুষের শরীর সেই পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয় । আর সেটাই হয়েছিল এহসাসের সঙ্গে । পরবর্তীতে জনবহুল এলাকায় এসে বসবাসের ফলে নতুন ধরনের জীবাণু, দূষণ ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের মতো মানিয়ে নিতে পারেনি সে । যার ফলে হয়তো, ফুসফুসের সংক্রমণ গুরুতর আকার ধারণ করে ব্যাকটেরিয়া রক্তে ছড়িয়ে গিয়ে সেপ্টিসেমিয়া হয়ে গিয়েছিল এহসাসের । এর ফলে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে । আর সব লড়াই মিথ্যে করে প্রাণটাই চলে গেল এহসাসের । </p>
from india https://ift.tt/a3k6Ajo
via IFTTT
0 Comments