<p><span style="font-weight: 400;"><strong>নয়াদিল্লি:</strong> বিবেকের তাড়নায় যদি ‘বন্দেমাতরম’ গাইতে অস্বীকার করলে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয় বলে জানিয়ে দিল দেশের সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত পরিষ্কার জানিয়েছে, ‘বন্দেমাতরম’ দেশের জাতীয় গান। কিন্তু সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫ এবং ২৬-কে সামনে রেখে, যথার্থ ধর্মীয় কারণে যদি কেউ গানের বিতর্কিত অংশ গাইতে আপত্তি জানান, তার জন্য শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে ১৯৮৬ সালের একটি রায়ের উদাহরণ তুলে ধরে আদালত, যাতে বিবেকের তাড়নায় জাতীয় সঙ্গীত গাইতে নারাজ শিশুদের সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছিল। </span><span style="font-weight: 400;">(Supreme Court on Vande Mataram)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><a title="সুপ্রিম কোর্ট" href="https://ift.tt/EtkeiBN" data-type="interlinkingkeywords">সুপ্রিম কোর্ট</a>ের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে সঙ্গীতশিল্পী টিএম কৃষ্ণের একটি আবেদনের শুনানি চলছিল। কেন্দ্রের তরফে ‘বন্দেমাতরমে’র ছয়টি স্তবক গাওয়া যেভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিলেন কৃষ্ণ। (Vande Mataram Row)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>আরও পড়ুন: <a title="রাতভর রুদ্ধশ্বাস নাটক, স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে গুলি করে খুন, পণবন্দি সন্তানকেও হত্যা, শেষে পুলিশের এনকাউন্টারে খতম যুবক" href="https://ift.tt/5xESP6M" target="_self">রাতভর রুদ্ধশ্বাস নাটক, স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে গুলি করে খুন, পণবন্দি সন্তানকেও হত্যা, শেষে পুলিশের এনকাউন্টারে খতম যুবক</a></strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সওয়াল জবাব চলাকালীন কৃষ্ণের আইনজীবী এস মুরলিধর আদালতে জানান, ‘বন্দেমাতরমে’র ছয়টি স্তবকের মধ্যে চারটি স্পষ্ট ভাবে হিন্দু দেব-দেবীর প্রতি ভক্তি প্রকাশ করে। কাউকে সেগুলি গাইতে বাধ্য করা হলে, তা দেশের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে ক্ষুণ্ণ করে। কেন্দ্রের সংশোধনীটিকে তিনি খেমখেয়ালি, অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন। বলেন, “এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারী সিদ্ধান্ত, যা সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় বার্তা প্রচার করে।”</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">শুধু তাই নয়, ‘জাতীয় গান’ শব্দটির প্রবর্তন ঘটলেও, জাতীয় গান বলতে কী বোঝায়, তার নির্দিষ্ট কোনও সংজ্ঞা বা সেই সংক্রান্ত কোনও গেজেট প্রকাশ করা হয়নি, কোনও আইনি বিধানের উল্লেখ নেই বলেও আদালতে যুক্তি পেশ করেন কৃষ্ণের আইনজীবী। তিনি জানান, অস্পষ্ট কিছুর উপর ভিত্তি করে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যায় না। এ ব্যাপারে জনমতের তোয়াক্কা না করে, তাড়াহুড়োয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের মূল আইনে জাতীয় গানের উল্লেখই ছিল না। এখন আবার সরকার দাবি করছে, দু’টি স্তবকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। </span></p>
<p><strong>আরও পড়ুন: <a title="বিজেপি-র ২ বিধায়কের মধ্য়ে বাক-বিতণ্ডা, বৈঠক চলাকালীন হঠাৎ ছন্দপতন, ‘ভয় আউট ভরসা ইন করতে পারিনি’, মানলেন মন্ত্রী শারদ্বত" href="https://ift.tt/okMQnDF" target="_self">বিজেপি-র ২ বিধায়কের মধ্য়ে বাক-বিতণ্ডা, বৈঠক চলাকালীন হঠাৎ ছন্দপতন, ‘ভয় আউট ভরসা ইন করতে পারিনি’, মানলেন মন্ত্রী শারদ্বত</a></strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এতে বিচারপতি বাগচির পর্যবেক্ষণ ছিল, “জাতীয় গান বলতে ‘বন্দেমাতরমকে’ই বোঝানো হয়েছে। আদালত জনগণের আশা-আকাঙ্খা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে না। এটা রাষ্ট্রের বিষয়। একটি স্তবক গাইবেন, না চারটি, মানুষ নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তার জন্য় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যায় না।” ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে বিচারপতি বাগচি জানান, আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীতে ‘গড’ বা ঈশ্বর শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। তাতে কি সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ক্ষুণ্ণ হয়?</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এর পর প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ইতিহাস পড়লেই বোঝা যায় জাতীয় গান কোনটি। যদিও সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন, “সংবিধানের ধারণা এতটা সঙ্কীর্ণ হতে পারে না।” আইন প্রণয়নের বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দেন মেহতা। তাঁর বক্তব্য ছিল, “নকশালদের ইচ্ছেমতো আইন প্রণয়ন করা উচিত নয়।” তাঁর ওই মন্তব্যে তীব্র বিরোধিতা করেন মুরলিধর। পরিস্থিতি তেতে ওঠে তাতে। সেই সময় নিজের পক্ষে সাফাই দিয়ে মেহতা জানান, আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে হওয়া উচিত, অস্ত্রশস্ত্র প্রয়োগ বা সংবিধান বহির্ভূত উপায়ে হওয়া উচিত নয় বলেই বার্তা দিতে চেয়েছিলেন তিনি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মেহতার ওই মন্তব্য রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি বাগচি। তিনি ডানান, সাংবিধানিক আদালতের গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে উঠেছে আইনের শাসন মেনে চলার কারণেই। সন্ত্রাসের অভিযোগ থাকা লোকজনের বিচার সালিশি সভায় হয় না, আইনের শাসন মেনে বিচার হয় আদালতে। এ নিয়ে কেন্দ্রের জবাব চায় আদালত, যাতে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><iframe title="YouTube video player" src="https://www.youtube.com/embed/PKwLsAu-z10?si=CREnlsubbM69ONas" width="560" height="315" frameborder="0" allowfullscreen="allowfullscreen"></iframe></span></p>
from india https://ift.tt/TfI4PFK
via IFTTT
0 Comments