<p>উত্তরপ্রদেশ, লখনউ : বাড়ির ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের। একটি ক্যাফের মালিক ছিলেন ওই যুবক এবং তাঁর মৃত্যুর জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে যুবকের ইনফ্লুয়েন্সার বান্ধবীকে। উত্তরপ্রদেশের লখনউতে ঘটেছে এই ঘটনা। যুবকের মৃত্যুতে তাঁর প্রেমিকাকে দায়ী করেছেন মৃতের মা। যুবকের মায়ের অভিযোগ, ওই তরুণী তাঁর ছেলে বিগত কয়েকমাস ধরেই ভয় দেখাচ্ছিল, হুমকি দিচ্ছিল, নানাভাবে হেনস্থা করছিল। </p>
<p>জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম শিব শর্মা। শনিবার রাতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। অভিযোগ, হজরতগঞ্জের বাড়ির ব্যালকনি থেকে আচমকাই পড়ে যান ওই যুবক। যদিও মৃত যুবকের মা রঞ্জনা শর্মার দাবি, তাঁর ছেলের বান্ধবী শ্রদ্ধা দুবে এই ঘটনার পিছনে দায়ী। মৃতের মা আরও জানিয়েছেন, বিগত কয়েকমাস ধরেই শিবকে ব্ল্যাকমেল করছিলেন শ্রদ্ধা। অভিযোগ, শ্রদ্ধা নাকি শিবকে ভয় দেখিয়েছিলেন এই বলে যে তিনি যুবকের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেবেন এবং শিবের সম্মানহানি করবেন। শিব এবং শ্রদ্ধার সম্পর্কে চিড় ধরেছিল বলেও দাবি করেছেন শিবের মা। তিনি এও বলেছেন যে, সম্পর্কে থেকে তাঁর ছেলে শারীরিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন। </p>
<p>শিব শর্মার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রদ্ধা এবং তাঁর বোন রশ্মির নামে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। এছাড়াও এফআইআর দায়ের হয়েছে দানিশ নামের এক ড্রাইভার এবং আদিল নামে আরও এক সহকারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছে আরও কয়েকজনের নাম যাঁদের পরিচয় এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। শিব শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অভিযোগপত্র শিবের মা রঞ্জনা জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৯টা নাগাদ তাঁকে ফোন করেছিলেন শ্রদ্ধা এবং তিনি রঞ্জনাকে জানান যে, শিব ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। </p>
<p>ছেলের এমন খবর পেয়ে ফের ফোন করেন রঞ্জনা। তখন তাঁকে জানানো হয় শ্রদ্ধার গাড়ির চালক শিবকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন। সঙ্গে রয়েছেন শ্রদ্ধাও। এরপর হাসপাতালে যান শিবের মা। লখনউয়ের King George's Medical University (KGMU) - তে গিয়ে দানিশ নামের এক অপরিচিত যুবকের সঙ্গে দেখা হয় রঞ্জনার, যিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন অ্যাম্বুল্যান্সের পাশে। শিবের দুর্ঘটনার ব্যাপারে এই দানিশকে জিজ্ঞেস করেন রঞ্জনা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দানিশ নিজেকে শ্রদ্ধার চালক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। শিবের মা রঞ্জনার অভিযোগ, দানিশকে তিনি যখন তাঁর ছেলের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন, তখন পুরো ব্যাপারটা অস্বীকার করে শিবের দেহ সেখানে ফেলেই চলে যান দানিশ। এরপর শিবকে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। </p>
<p>মৃত শিব শর্মার মা রঞ্জনার অভিযোগ, প্রায় চারমাস ধরে তাঁর ছেলের উপর অত্যাচার চালাচ্ছিল শ্রদ্ধা। মানসিক অত্যাচারের পাশাপাশি শারীরিক অত্যাচারও চলত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ছেলের শরীরের বিভিন্ন অংশে সিগারেটের ছ্যাঁকা, অন্যান্য ক্ষত দেখেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি বলেছেন, শিবের শরীরের অংশ থেকেই রক্ত বেরনোর চিহ্নও দেখেছেন তিনি। কীভাবে মৃত্যু হল যুবকের, তা জানতে আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। </p>
from india https://ift.tt/4zm7goN
via IFTTT
0 Comments