<p><strong>নয়াদিল্লি:</strong> বিতর্কের মধ্যেই লোকসভায় পেশ হল ওয়াকফ সংশোধনী বিল। সেই নিয়ে সরগরম দেশের সংসদ। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস সাংসদরা। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বিল পেশ করা সময় তীব্র বিরোধিতা জানান বিরোধীরা। তবে বিজেপি-র তরফে বিল পাশ নিয়ে আত্মবিশ্বাস ধরা পড়ছে। কারণ কেন্দ্রে তাদের জোট নির্ভর সরকারের শরিক দলগুলি, TDP, JDU, শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে), লোক জনশক্তি পার্টি রামবিলাস শাখা ইতিমধ্যেই বিলটিতে সমর্থন জানিয়েছে। দলের সব সাংসদকে দুই কক্ষে হাজির থাকতে বলে হুইপ জারিও করেছে বিজেপি ও জোট সরকারের শরিক দলগুলি। বিলের বিরোধিতায় এককাট্টা কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং তৃণমূলও। (Waqf Amendment Bill)</p> <p>ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে আগেই ‘অসংবিধানিক এবং মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারী’ বলে অভিযোগ করেছে একাধিক বিরোধী দল। সেই নিে এদিন সংসদে বিরোধীদের নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তিনি দাবি জানান, ওয়াকফ বোর্ডে স্বচ্ছতা আনতেই এই বিল। স্বাধীনতার পর ওয়াকফ বিল অসাংবিধানিক মনে না হলে, এখন কেন মনে হচ্ছে, সেই নিয়ে বিরোধীদের বেঁধেন রিজিজু। কিন্তু বিরোধীরা একজোট হয়ে এর প্রতিবাদ জানান। (Waqf Bill in Lok Sabha)</p> <p>রিজিজু এদিন লোকসভায় জানান, ২০১৩ সালে এমন কিছু পদক্ষেপ করা হয়, তার জন্যই ওয়াকফ বিলটি সংশোধন করতে হচ্ছে তাঁদের। তিনি বলেন, "২০১৩ সালে নিয়ম চালু হয় যে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, যে কেউ ওয়াকফ সম্পত্তি তৈরি করতে পারে। ইউপিএ সরকার এই কাণ্ড ঘটায়। শিয়া বোর্ডে শিয়া থাকবে, সুন্নি বোর্ডে শুধু সুন্নি থাকবে বলে নিয়ম আনা হয়। ১০৮ ধারায় লেখা হয়, ওয়াকফ বোর্ডের বিধি দেশের অন্য আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে। দেশে এমন বিধি থাকতে পারে কি?"</p> <p><iframe title="YouTube video player" src="https://www.youtube.com/embed/_kgCVZfTDS4?si=UWQXldZmnuLnekXH" width="560" height="315" frameborder="0" allowfullscreen="allowfullscreen"></iframe></p> <p>রিজিজু আরও বলেন, "ওয়াকফ নিয়ে ১৯৭০ থেকে দিল্লিতে মামলা চলছিল। সিজিও কমপ্লেক্স, সংসদভবন ছিল। দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড দাবি করে এই সব ওয়াকফের সম্পত্তি বলে। সেই সময় UPA সরকার সব জমি ডিনোটিফাই করে ওয়াকফ বোর্ডকে দিয়ে দেয়। আমরা আজ বিল সংশোধন না করলে যে সংসদে আমরা বসে আছি, তাও ওয়াকফ বোর্ড নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি করা হচ্ছিল। ১২৩টি সম্পত্তি, UPA সরকার টিকে থাকলে, নরেন্দ্র মোদিজির সরকার না এলে, না জানি কত বিল্ডিং চলে যেত।"</p> <p>রিজিজু এই দাবি করতেই তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীরা। সংসদে দাঁড়িয়ে রিজিজু মিথ্যা দাবি করছেন বলে দাবি করেন তাঁরা। এতে রিজিজু জানান, তিনি মনগড়া গল্প বলছেন না। রেকর্ড আছে তাঁর কাছে। এতে বিরোধীরা রেকর্ড দেখতে চান। কিন্তু তাঁদের থামিয়ে দেন স্পিকার ওম বিড়লা। প্রত্যেকে বলার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি। স্পিকারের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা, তাতে বিড়লা বলেন, স্পিকারের সিদ্ধান্তই সংসদে চূড়ান্ত। </p> <p>এর পরও লাগাতার প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিরোধীরা। সেই আবহেই রিজিজু বলেন, "সরকার কোনও ধর্মীয় সংগঠন বা তাদের কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করছে না। কোনও মসজিদের সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করছি না আমরা। ওয়াকফ বোর্ডের সঙ্গে ধর্মের কোনও যোগ নেই, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় এটি। যে কোনও ভারতীয় ওয়াকফ সম্পত্তি তৈরি করতে পারে বলে ১৯৯৫ সালে লেখা ছিল না। আপনারা এই পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন। আমরা বলেছি, অন্তত পক্ষে ৫ বছর ইসলামের অনুগামী হলে তবেি তা করা যাবে। ওয়াকফ বোর্ডে শিয়া, সুন্নি, বোহরা, মুসলিমদের অনগ্রসর শ্রেণিও থাকবে, মহিলা সদস্যও থাকবেন এবং অমুসলিম বিশেষজ্ঞকেও রাখার কথা বলা হয়েছে।"</p>
from india https://ift.tt/tKkgPeN
via IFTTT
0 Comments