<p><span style="font-weight: 400;"><strong>নয়াদিল্লি:</strong> ধর্ষণের শিকার নাবালিকার গর্ভপাতে আপত্তি জানানোয় <a title="সুপ্রিম কোর্ট" href="https://ift.tt/uItVwc4" data-type="interlinkingkeywords">সুপ্রিম কোর্ট</a>ে ভর্ৎসিত কেন্দ্র। নাগরিকদের ইচ্ছের উপর সরকার ছড়ি ঘোরাতে পারে না বলে জানিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ১৫ বছর বয়সি ওই কিশোরী এবং তাঁর পরিবারের লোকজন ৩১ সপ্তাহের গর্ভাবস্থাতেই গর্ভপাতের পক্ষে। কিন্তু এই অবস্থায় গর্ভপাত না করে, সন্তান প্রসব এবং শিশুটি কাউকে দত্তক দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে কেন্দ্র। (Supreme Court on Pregnancy Termination)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">আগেই নির্যাতিতাকে গর্ভপাতের অনুমোদন দিয়েছিল আদালত। কিন্তু নির্যাতিতা এবং তাঁর পরিবারের গর্ভপাতের আবেদন পর্যালোচনা করে দেখে রায় সংশোধনের আবেদন জানায় কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে শুনানি চলছিল। সেখানে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্যা ভাটি দাবি করেন, ভ্রূণের বয়স ৩১ সপ্তাহ। এই অবস্থায় গর্ভপাত সম্ভব নয়। মেয়েটির কাছে একটিই রাস্তা আছে, সন্তান প্রসবের পর দত্তকের জন্য দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। (Pregnancy Termination)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">ঐশ্বর্যা আদালতে বলেন, “অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গেই সংশোধনী আর্জি জানাতে হচ্ছে আমাদের। AIIMS থেকে এসেছে। গর্ভপাত সম্ভব নয়। শিশুটি জীবিত অবস্থাতেই ভূমিষ্ঠ হবে। শরীরে বিকলাঙ্গতা থাকতে পারে…নাবালিকা মাকে সারা জীবন শারীরিক জটিলতা পোহাতে হতে পারে। একটাই রাস্তা রয়েছে, শিশুটিকে দত্তক দিয়ে দেওয়া। শিশুটির জন্য সেটাই ভাল। আর মাত্র চারটি সপ্তাহ।”</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেন, “নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনা…সারা জীবন মনে ক্ষত থেকে যাবে, আঘাত থেকে যাবে। পরবর্তীতে বৈবাহিক জীবন জটিল হলেও, এই যন্ত্রণার চেয়ে কি তা বেশি হতে পারে? AIIMS-এ অনেক ভাল চিকিৎসক রয়েছেন। মেয়েটির জীবন তাঁদের হাতে। একবার ভেবে দেখুন, মেয়েটি কী যন্ত্রণা সহ্য করছে। প্রত্যেক মুহূর্তে বয়ে বেড়াচ্ছে ভ্রূণটিকে। কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নারী হলে পরিস্থিতি হয়ত আলাদা হতো। কিন্তু ১৫ বছর বয়সি মেয়ে অবাঞ্ছিত গর্ভাবস্থা বয়ে বেড়াচ্ছে। বিষয়টি যদি মেয়েটি এবং তার গর্ভে বেড়ে ওঠা ভ্রূণের মধ্যেকার লড়াইয়ে পরিণত হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রেও মেয়েটির সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। ন্যায়ের স্বার্থে আইনকেও কড়া হতে হবে।”</span></p> <p><span style="font-weight: 400;"><iframe title="YouTube video player" src="https://www.youtube.com/embed/aYffK5pV9Ks?si=P8BBK7jADb21TOjS" width="560" height="315" frameborder="0" allowfullscreen="allowfullscreen"></iframe></span></p> <p> </p> <p><span style="font-weight: 400;">CJI সূর্যকান্ত আরও বলেন, “এই বয়সে নিজের আশা-আকাঙ্খা, স্বপ্ন নিয়ে ভাবার কথা মেয়েটির। তার জীবনে উচ্চাকাঙ্খা থাকার কথা। অথচ আমরা চাইছি ও মা হোক? কত অসম্মান এবং যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে ওকে। ধর্ষণের পর যে যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে মেয়েটিকে, কোনও কিছুই সেই ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না। নাগরিকদের সম্মান দিন ম্যাডাম। আদালতের গর্ভপাতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কোনও এক্তিয়ার নেই আপনাদের। শুধুমাত্র নির্যাতিতা এবং তাঁর পরিবারের লোকজনই তা পারেন।” </span></p> <p><span style="font-weight: 400;">বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ঐশ্বর্যার উদ্দেশে বলেন, “নাগরিকের ইচ্ছে-অনিচ্ছেকে সম্মান করি আমরা। আপনাদেরও সেই পথে হাঁটা উচিত। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ডেটা তুলে ধরুন নির্যাতিতার পরিবারের সামনে। তাঁরা যদি ভ্রূণটিকে বাঁচিয়ে রাখতে চান, তাহলে থাকবে। কিন্তু তাঁরা যদি নিজের সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেন, তাও তাঁদের সিদ্ধান্ত হবে। আপনাদের সংশোধনী আবেদন চাপিয়ে দেবেন না।”</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">গত সপ্তাহেই নাবালিকার গর্ভপাতে সায় দিয়েছিল আদালত। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া জানিয়েছিলেন, মেয়েটিকে সন্তান প্রসবে বাধ্য করা বেঁচে থাকার অধিকারের পরিপন্থী। প্রজননের স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। মেয়েটি দু’দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার আছে তার। সেই সময়ও গর্ভপাতের বিরোধিতা করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর দাবি ছিল, বর্তমান অবস্থায় গর্ভপাত করালে তা মেয়েটি এবং ভ্রূণটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ২৪ সপ্তাহ পর গর্ভপাত করানোর অনুমতি নেই বলেও আদালতে জানান তিনি। কিন্তু নির্যাতিতার আইনজীবীর যুক্তি ছিল, এই গর্ভাবস্থা মেয়েটির জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার জোগাড়। প্রত্যেকটি মুহূর্ত যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে মেয়েটি।</span></p>
from india https://ift.tt/d6ga7kq
via IFTTT
0 Comments