<p><span style="font-weight: 400;"><strong>নয়াদিল্লি:</strong> ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক কেমন থাকে, তা গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির উপর নির্ভর করছে বলে এবার মন্তব্য করলেন সেদেশের মন্ত্রী তথা ক্ষমতাসীন BNP-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গঙ্গার জল নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা এবং প্রয়োজন বুঝে, সেই মর্মে নতুন করে চুক্তিস্বাক্ষরের কথা শোনা গেল তাঁর মুখে। গঙ্গা, তিস্তার মতো নদীগুলির উপর যে বাংলাদেশের জীবন, জীবিকা নির্ভর করে, তাও স্মরণ করালেন। (Ganga Water Sharing Treaty)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বর্তমানে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে যে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি রয়েছে, তা স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৬ সালে। সেই সময় বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিলেন শেখ হাসিনা। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ। আর তার আগেই গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ভারতের উপর চাপ বাড়াতে শুরু করল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। (India-Bangladesh Relations)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><iframe title="YouTube video player" src="https://www.youtube.com/embed/As52if_4sBY?si=vLAF7wIy1090TFXQ" width="560" height="315" frameborder="0" allowfullscreen="allowfullscreen"></iframe></span></p>
<p><strong>আরও পড়ুন: <a title="রাজধানী এক্সপ্রেসে বিধ্বংসী আগুন, পুড়ে ছাই এসি কামরা, আগুন ধরল গাছপালাতেও, ভয়ঙ্কর ঘটনা" href="https://ift.tt/yabYhRH" target="_self">রাজধানী এক্সপ্রেসে বিধ্বংসী আগুন, পুড়ে ছাই এসি কামরা, আগুন ধরল গাছপালাতেও, ভয়ঙ্কর ঘটনা</a></strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ঢাকায় একটি আলোচনাসভায় গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে মুখ খোলেন বাংলাদেশের গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, ভারতকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় বাংলাদেশ যে। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থরক্ষা হয় যাতে, সেই মর্মেই নতুন চুক্তি করতে হবে। তাঁর কথায়, “ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নির্ভর করবে গঙ্গা জলবণ্টন অথবা ফারাক্কা চুক্তির উপর।” নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত আগের চুক্তির শর্তাবলী কার্যকর থাকে যাতে, ভবিষ্য়তের চুক্তি যাতে মেয়াদনির্ভর না হয়, তা নিয়েও সওয়াল করেছেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>আরও পড়ুন: <a title="চিনসফরে অদ্ভুত কাণ্ড, বিমানে ওঠার আগে সব উপহার ডাস্টবিনে ফেলে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা, কিন্তু কেন?" href="https://ift.tt/KRjzXBU" target="_self">চিনসফরে অদ্ভুত কাণ্ড, বিমানে ওঠার আগে সব উপহার ডাস্টবিনে ফেলে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা, কিন্তু কেন?</a></strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে গঙ্গে। সেখান থেকেই গঙ্গা হয়ে যায় পদ্মা। বাংলাদেশের কৃষিকার্য, জীববৈচিত্র এবং জল সরবরাহ ব্যবস্থায় পদ্মার গুরুত্ব অপরিসীম। এমনিতে শত শত নদী দ্বারা বেষ্টিত বাংলাদেশ। কিন্তু তার মধ্যে ৫৪টি নদীর উৎস ভারত, অথবা ভারতের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সেগুলি। তাই জলবণ্টন চুক্তিতে আবদ্ধ দুই দেশ, যার দ্বারা পর্যাপ্ত জল পায় বাংলাদেশ। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ভারত এবং বাংলাদেশ—দুই দেশের জন্যই ফারাক্কা ইস্যু স্পর্শকাতর। ফারাক্কায় বাঁধের জেরে জলের প্রবাহ কমে যায় এবং জল লবণাক্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ বাংলাদেশের। এর ফলে কৃষিকার্য এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বলেও দাবি করে তারা। যদিও ভারতের যুক্তি, পলি সরিয়ে হুগলি নদীতে জলের প্রবাহ ধরে রাখতে এবং কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ধরে রাখতেই ফারাক্কায় ওই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ফারাক্কা লং মার্চের মাধ্যমে বাংলাদেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের জাতির, দেশের, জনগণের স্বার্থের প্রশ্ন। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গঙ্গা এবং অন্য নদীর জলে নিজেদের ভাগ বুঝে নিতে হবে। ফারাক্কা চুক্তি কার্যকর করা এবং জলস্বার্থ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।”</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অন্য দিকে বাংলাদেশের পদ্মা বাঁধ পরিকল্পনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার পদ্মা নদীর উপর বৃহৎ বাঁধ প্রকল্পের ঘোষণা করেছে। তাদের দাবি, ফারাক্কা বাঁধের নৈতিবাচক প্রভাবের মোকাবিলা করতেই পদ্মা নদীর উপর বাঁধ গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী সাহাবুদ্দিন চৌধুরী আনির দাবি, দেশের জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই পদ্মার উপর বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সেব্যাপারে ভারতের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন নেই। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ওই বাঁধ নির্মাণের ফলে আরও বেশি পলি জমতে পারে। এর ফলে নদীর তলদেশ আরও উঁচু হয়ে উঠবে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তিস্তা জলবণ্টন প্রকল্প নিয়েও সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী <a title="মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়" href="https://ift.tt/RPeDq0B" data-type="interlinkingkeywords">মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়</a>ের তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশ। তাদের দাবি, মমতার জন্যই তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি পিছিয়ে গিয়েছে। মমতাই ওই চুক্তিকে এগোতে দেননি বলে দাবি করেন BNP-র তথ্যসচিব আজিজুল বারি হেলাল। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র নতুন সরকারকে নিয়ে আশাবাদী তিনি। এবার তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি গতি পাবে বলে মনে করছেন তিনি। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি চিনের তরফে আগ্রহ প্রকাশ নিয়েও প্রমাগ গুনছেন অনেকে। কারণ তাতে শিলিগুড়ির করিডরের কাছে নিঃশ্বাস ফেলবে ড্রাগন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এর পাশাপাশি, ঘরোয়া ভাবে ভারত জানাচ্ছে, চিনের সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লির নিরাপত্তা-স্বার্থের পরিপন্থী। দীর্ঘদিন ধরেই চিনের তিস্তা প্রকল্পে আগ্রহের বিষয়টি ভারতের কাছে উদ্বেগজনক, কারণ এটি বাস্তবায়িত হলে কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলবে ড্রাগন। সম্প্রতি চিনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিস্তা নিয়ে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ, তার পোশাকি নাম ‘Comprehensive Management And Restoration of Teesta River Project’. এর আওতায় ১০২ কিলোমিটার নদীঘাত খনন করে তিস্তার গভীরতা বৃদ্ধি, নদীর দু’পাশে ২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধের মতো বিষয়ও রয়েছে। চিন ওই প্রকল্পে হাত দিলে তারা ভারতের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।</span></p>
from india https://ift.tt/tR0sXYr
via IFTTT
0 Comments