<p><strong>চেন্নাই:</strong> জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে বিতর্ক চলছিলই। কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত জিইয়ে রেখে এবার আরও বড় পদক্ষেপ করল তামিলনাড়ুর এমকে স্ট্যালিন সরকার। বাজেটে ভারতীয় মুদ্রার প্রতীকচিহ্ন কার্যত পাল্টে দিল তারা। ভারতীয় মুদ্রা Rupee-র প্রতীকচিহ্ন হিসেবে '₹' ব্যবহার করা হয়। হিন্দি অক্ষর 'র' ভারতীয় মুদ্রার প্রতীকচিহ্ন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই প্রতীকচিহ্ন না ব্য়বহার করে রাজ্যের ২০২৫-'২৬ সালের বাজেটে ভারতীয় মুদ্রার প্রতীকচিহ্ন হিসেবে তামিল ভাষার ব্যবহার করা হল। (Tamil Nadu Replaces Rupee Symbol)</p> <p>রাজ্য বাজেট নিয়ে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে তামিলনাড়ুর স্ট্যালিন সরকার, তাতে টাকার প্রতীকচিহ্ন হিসেবে '₹' নেই। পরিবর্তে তামিল অক্ষর ব্য়বহার করে 'Ru' লেখা হয়েছে। তামিল ভাষায় টাকাকে 'Rubai' বলা হয়, সেই নিরিখেই নয়া প্রতীকচিহ্ন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দিচ্ছে বলে দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ তুলে আসছে দক্ষিণের রাজ্যগুলি। জাতীয় শিক্ষা নীতির মাধ্যমেও হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। আর সেই আবহেই সার্বিক ভাবে ব্যবহৃত টাকার প্রতীকচিহ্ন '₹' বর্জন করে কেন্দ্রকে বার্তা দিল তামিলনাড়ু। (Hindi Imposition Row)</p> <p>এই প্রথম কোনও রাজ্য দেশের মুদ্রার প্রতীকচিহ্ন বর্জন করল। বর্তমানে দেশে টাকার প্রতীকচিহ্ন হিসেবে যে '₹' প্রতীকচিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তার সৃষ্টিকর্তা তামিলনাড়ুরই কল্লাকুরিচির বাসিন্দা, শিক্ষাবিদ তথা ডিজাইনার উদয়কুমার ধর্মলিঙ্গম। ২০১০ সালে ভারতীয় মুদ্রার নয়া নকশা হিসেবে '₹'-র সৃষ্টি করেন তিনি। দেবনাগরী অক্ষর र-র মাত্রার নীচে আড়াআড়ি ভাবে একটি রেখা যোগ করে নয়া প্রতীকচিহ্নটির সৃষ্টি করেন তিনি। তার আগে পর্যন্ত ভারতীয় মুদ্রার প্রতীকচিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হত RS., Re. </p> <p>২০১০ সালের জুলাই মাসে '₹' ভারতীয় মুদ্রার প্রতীকচিহ্ন হিসেবে গৃহীত হয়। সেই সময় IIT বম্বের ভিস্যুয়াল ডিজাইনিং বিভাগে পাঠরত ছিলেন উদয়কুমার। তাঁর বাবা ধর্মলিঙ্গম স্ট্যালিনের Dravida Munnetra Kazhagam (DMK)-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে হিন্দিবিরোধী যে অবস্থান স্ট্যালিন সরকারের, তার আওতায় হিন্দি প্রতীকচিহ্নও বর্জনের পথে হাঁটল তারা। </p> <p>জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণের একাধিক রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সংঘাত আজকের নয়। সম্প্রতি সংঘাতের সেই আগুনে ঘি ঢালে মোদি সরকারের জাতীয় শিক্ষা নীতি। নয়া শিক্ষানীতির আওতায় প্রাথমিক স্কুলে তিনটি ভাষা শেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়, যার মধ্যে একটি যদি ইংরেজি হয়, বাকি দু'টি ভারতীয় ভাষা হতেই হবে। সেকেন্ডারি স্তলে বিদেশি ভাষা শেখা যেতে পারে, সেই তালিকায় কোরীয়, জাপানি, ফরাসি, জার্মান, স্পেনীয় ভাষা শেখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতীয় ভাষা এবং ইংরেজিও রয়েছে তাতে। সরকারি, বেসরকারি সমস্ত স্কুলের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য বলে জানানো হয়। </p> <p>গোড়া থেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে আসছে তামিলনাড়ু। তাদের দাবি, জোর করে হিন্দি চাপাতে গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়েছে কেন্দ্র। তাই শিক্ষানীতির মাধ্যমে ঘুরপথে হিন্দিকে দক্ষিণের রাজ্যের পড়ুয়াদের পাঠ্যক্রমে ঢোকাতে চাইছে। আজ বলে নয়, স্বাধীনতার আগে থেকে মাতৃভাষা নিয়ে লড়াই চালিয়ে আসছে তামিলনাড়ু। ১৯৩৭ সালে তদানীন্তন মাদ্রাস সরকারের প্রধান সি রাজাগোপালাচারী স্কুলে হিন্দি বাধ্যতামূলক করলে, রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ-আন্দোলন শুরু হয়। জাস্টিস পার্টি থেকে দ্রাবিড় নেতা পেরিয়ার সকলে সেই আন্দোলনে শামিল হন। হিন্দি বিরোধী আন্দোলনের জেরে ১৯৪০ সালে সেই নীতি পাল্টাতে হয়। </p>
from india https://ift.tt/VecNE2b
via IFTTT
0 Comments