<p><span style="font-weight: 400;"><strong>নয়াদিল্লি:</strong> আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিমানযাত্রায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলির উপর নজরদারি চালানো একটি অলাভজনক সংস্থা (NGO) মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, গতবছর আমদাবাদে যে Boeing 787 Dreamliner বিমানটি ভেঙে পড়ে এবং ২৬০ জন মারা যান, সেটিতে আগে বার বার যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ার রেকর্ড রয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ায় একেবারে প্রথম দিনই সিস্টেমে ম্যালফাংশন ধরা পড়ে। এমনকি উড়ন্ত অবস্থায় বিমানে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। (Air India Crash Probe)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">The Foundation for Aviation Safety নামের ওই সংস্থা নিজেদের ওই রিপোর্ট ইতিমধ্যেই আমেরিকার সেনেটে পাঠিয়ে দিয়েছে। BBC জানিয়েছে, আমেরিকার সেনেটের একটি স্থায়ী উপসমিতিতে রিপোর্টটি জমা পড়েছে। Boeing-এর বিমানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। তদন্তে যা উঠে এসেছে, সবই তুলে ধরা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি Boeing. (Air India Crash)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">The Foundation for Aviation Safety জানিয়েছে, আমদাবাদের দুর্ঘটনার আগেও Boeing 787-এর নিরাপত্তা নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাতেই 787 সিরিজের শতাধিক বিমানে ২০০০-এর বেশি ত্রুটি ধরা পড়ে। একদা সিয়াটলে Boeing-এ সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত এড পিয়ার্সনের নেতৃত্বে তদন্ত চালায় The Foundation for Aviation Safety. Boeing-এর বিমানে নিরাপত্তা এবং গুণমান নিয়ে প্রশ্নের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে বলে দাবি ওই সংস্থার।</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">বিশেষ করে Boeing-এর প্রযুক্তিগত ত্রুটিগুলি খতিয়ে দেখা উচিত বলে মত The Foundation for Aviation Safety-এর। শুধুমাত্র পাইলটদের ঘাড়ে দোষ চাপালে গুরুতর সমস্যাগুলি ঢাকা পড়ে যাবে বলে মত তাদের। আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী ব্যুরো (AAIB) যেমন তদন্ত করছে, তদন্ত করছে আমেরিকাও। কারণ Boeing-এর 787 সিরিজের বিমান এবং তার ইঞ্জিন আমেরিকাতেই তৈরি। </span></p> <p><span style="font-weight: 400;">আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার যে বিমানটি ভেঙে পড়ে গত বছর, সেটি Boeing 787 সিরিজেরই প্রথম দিকের বিমান ছিল। ২০১৩ সালের শেষ দিকে আকাশে ওড়ে সেটি। এয়ার ইন্ডিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয় ২০১৪ সালের গোড়ায়। The Foundation for Aviation Safety জানিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রথম দিনই বিমানটিতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানুফ্যাকচারিং সমস্যা থেকেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় বিমানটিতে। বৈদ্যুতিক এবং সফ্টওয়্যার-জনিত সমস্যার কথাও বলা হয়েছে। ট্রিপড সার্কিট ব্রেকার্স, ওয়্যারিং ড্যামেজ, শর্ট সার্কিট, ইলেকট্রিক্যাল কারেন্ট লস এবং ওভারহিটিং অফ পাওয়ার সিস্টেম কম্পোনেন্টের কথা তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে। </span></p> <p><span style="font-weight: 400;">রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে P100 পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্যানেলে আগুন ধরে যায়। ফ্র্যাঙ্কফুর্টে নামার সময় পাইলটদের কাছে সেই মর্মে সঙ্কেত আসে। পরে তদন্ত করে গোটা প্যানেলটি বদলানো হয়। আগের বিমানের তুলনায় ৭৮৭ সিরিজের বিমানগুলি অনেক বেশি বৈদ্যুতিক শক্তির উপর নির্ভরশীল। আগের সরঞ্জামগুলি বাদ দিয়ে হালকা ওজনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বসানো হয় বিমানে। কিন্তু তাতে ব্যাটারিতে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে ২০১৩ সালে, জাপান এয়ারলাইন্সের ৭৮৭ বিমানে। তারের মধ্যে জল ঢুকে যাওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে।</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">আমদাবাদের দুর্ঘটনা নিয়ে ওয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সেই নিয়ে তদন্ত চলছে ভারতেও। কিন্তু ভারতে যে প্রক্রিয়ায় তদন্ত চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস। AAIB-কে আইনি নোটিস ধরিয়েছে তারা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির পাইলট সুমিত সাবরওয়াল-এর আত্মীয়কে সমন পাঠানোর তীব্র বিরোধিতা করেচে তারা। পাইলট সংগঠনের দাবি, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী আসল কারণগুলিকে ধামাচাপা দিতে পাইলটদের ঘাড়ে দায় ঠেলার চেষ্টা হচ্ছে।</span></p>
from india https://ift.tt/wgPs1K0
via IFTTT
0 Comments