Parliament Special Session: ‘আমি ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়ে দিচ্ছি…’, লোকসভায় বললেন মোদি, পাল্টা আক্রমণে প্রিয়ঙ্কা গাঁধী, অখিলেশ যাদবরা

<p><span style="font-weight: 400;"><strong>নয়াদিল্লি:</strong> মহিলা সংরক্ষণ বিলের মোড়কে আসলে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। বৃহস্পতিবার সংসদের বিশেষ অধিবেশনে সেই নিয়ে বাদানুবাদ চরমে পৌঁছল। একদিকে রাজ্যের অধিকার খর্ব, গণতন্ত্রের গোড়ায় আঘাত হানার অভিযোগ তুললেন বিরোধীরা। অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধীদের &lsquo;ব্ল্যাঙ্ক চেক&rsquo; দেওয়ার কথা বললেন। দক্ষিণ ভারতের গুরুত্ব খর্ব হওয়া নিয়ে আশা-আশঙ্কা দূর করার চেষ্টা করতে দেখা গেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও। (Women Reservation Bill)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">সংবিধান সংশোধনী বিল, রাজ্যগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। কেন্দ্রের দাবি মহিলা জনপ্রতিধিদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করতেই উদ্যোগী তারা। মহিলা সংরক্ষণ বিল যদিও আগেই পাস হয়ে গিয়েছিল সংসদে। বিরোধীরা সেই বিলে সমর্থনও জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালে আইন তৈরি হলেও, আজও মহিলা জনপ্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষণ কার্যকর করা যায়নি। তাই ২০২৭ সালে জনগণনার ফলাফল হাতে না আসার অপেক্ষা না করে, ২০১১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি ধরে তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে কেন, মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সীমানা পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে কেন জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। (Parliament Special Session)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">সেই আবহেই এদিন সংসদে বক্তৃতা করতে ওঠেন মোদি। সেখানে বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, &ldquo;আপনারা এই বিলের যত বিরোধিতা করবেন, ততই রাজনৈতিক ফায়দা আমার। তবে একজোট হলে কেউ ফায়দা লুটতে পারবে না। আমার কৃতিত্ব চাই না। বিল পাস হলে, আমি সকলের ছবি দিয়ে হোর্ডিং টাঙিয়ে দেব। আমি সব কৃতিত্ব আপনাদের দিয়ে দেব। আমি কৃতিত্বের ব্ল্যাঙ্ক চেক দিচ্ছি আপনাদের।&rdquo; বিল পাস হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলির ক্ষতি হতে পারে বলে যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেই প্রসঙ্গে মোদি বলেন, &ldquo;আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, কোনও রাজ্যের সঙ্গে অবিচার হবে না, পূর্ব হোক বা পশ্চিম, উত্তর হোক বা দক্ষিণ।&rdquo;</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">যদিও মোদির আশ্বাসবাণীকে &lsquo;নাটক&rsquo; বলে উল্লেখ করেন শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) সাংসদ অরবিন্দ গণপত সাওয়ন্ত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন চলাকালীনই কেন বেছে বেছে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হল? অরবিন্দ বলেন, &ldquo;ভুলে গিয়েছেন বোধহয় যে আপনারাই বিশেষ অধিবেশন ডেকেছেন, তাও যখন দেশের পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন চলছে। কেন এই বিশেষ অধিবেশন ডেকেছেন? সাধারণ বাদল অধিবেশনেও তো বিল তোলা যেত? পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন চলাকালীন এই তাড়াহুড়ো কেন?&rdquo; মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সরাসরি জনবিন্যাস বিলকে সংযুক্ত করাতেই আপত্তির কথা জানান অরবিন্দ। বলেন, &ldquo;আপনারা মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সীমানা পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন। তাই বিরোধিতা করছি। আজই মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করুন। কিন্তু সীমান পুনর্বিন্যাস বিলকে আলাদা রাখুন। মহিলাদের সম্মান নিয়ে এত কথা, মণিপুর কী করে ভুলে যান? মণিপুরে কী অত্যাচার, হামলা হচ্ছে? সেখানেও মহিলাদের সম্মানের প্রশ্ন জড়িয়ে।&rdquo; উদ্ধব ঠাকরেও এদিন পৃথক বিবৃতি দেন। বলেন, &ldquo;শিবসেনার অবস্থান স্পষ্ট। অবিলম্বে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করুন। আপাতত স্থগিত রাখা হোক সীমানা পুনর্বিন্যাস।&rdquo;</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধীও এদিন কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেন। আন্তর্জাতিক মহল থেকে যে চাপসৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে নজর ঘোরাতে এবং নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই বিল তিনটি আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, &ldquo;২০২৩ সালে আইন হয়ে গিয়েছিল। কংগ্রেস তখনও সমর্থন জানিয়েছিল, আজও জানাচ্ছে। কংগ্রেস মহিলা সংরক্ষণের পক্ষে। কিন্তু আসলে মহিলা সংরক্ষণের জন্য আজ এই আলোচনা নয়। ৫৪৩ আসনের লোকসভাতেই কেন মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না? বিল ভাল করলে পড়লেই বোঝা যায় কী উদ্দেশ্য। রাজনীতির গন্ধ রয়েছে। সমস্ত প্রতিষ্ঠানের উপর চাপসৃষ্টি করে গণতন্ত্র টুঁটি চেপে ধরতে শুরু করেছিল সরকার, নির্বাচন কমিশন থেকে বিচার বিভাগ, মিডিয়া&hellip;এখন প্রকাশ্যে&nbsp; গণতন্ত্রের মূলে আঘাত হানছে। সংবিধান সংশোধনের বিল পাস হলে দেশে গণতন্ত্র বলে কিছু থাকবে না।&rdquo; আগামী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে, বিজেপি-র শিকড় মজবুত করতে <a title="অমিত শাহ" href="https://ift.tt/u3cjQYR" data-type="interlinkingkeywords">অমিত শাহ</a> নিজের কুটিল বুদ্ধি খাটিয়ে বিল এনেছেন বলেও অভিযোগ করেন প্রিয়ঙ্কা।&nbsp;</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">এর পর বক্তৃতা করতে ওঠেন শাহ। লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার সপক্ষে তিনি যুক্তি দেন, প্রত্যেক রাজ্যের আসনসংখ্যাই ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এক তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য রেখে দেওয়া যাবে সেক্ষেত্রে। কীভাবে আসন বণ্টন হবে, তা ব্যাখ্যা করে জানান, তামিলনাড়ু আরও ২০টি আসন পাবে, কেরলম পাবে আরও ১০টি, তেলঙ্গানা পাবে আরও ৯টি, অন্ধ্রপ্রদেশ আরও ১৩টি, কর্নাটকের আসনসংখ্যা ২৮ থেকে বেড়ে হবে ৪২। শাহ জানান, বর্তমানে দক্ষিণের রাজ্যগুলির সম্মিলিত সাংসদসংখ্যা যেখানে ১২৯, আগামীতে তা বেড়ে হবে ১৯৫।&nbsp; তবে আসনবৃদ্ধির ফলে প্রথমে উত্তরপ্রদেশ এবং তার পর মহারাষ্ট্রই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সাংসদ পাবে লোকসভায়। সেই নিয়ে গোড়া থেকেই প্রশ্ন উঠছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও তীব্র প্রতিবাদ জানান। জনসংখ্য়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বরাবর সচেতন দক্ষিণের রাজ্যগুলি। সেখান থেকে বেশি পরিমাণ করও যায় কেন্দ্রের কাছে। তাই জনসংখ্য়ার নিরিখে উত্তর এবং মধ্য়ভারতের রাজ্যগুলির আসন পেলে, সেক্ষেত্রে তাদের জন্য অর্থও বেশি বরাদ্দ হবে, আবার দক্ষিণ ভারতের উপর উত্তর ভারতের রাজনৈতিক আধিপত্য় কায়েম হবে বলে আশঙ্কা করছে দক্ষিণের একাধিক রাজ্য।</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">এমনকি উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও বিলের তীব্র বিরোধিতা করেন এদিন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মহিলাদের ক্ষমতায়নে যদি এতই উদ্বিগ্ন হয় বিজেপি, তাহলে সংসদে তাদের মহিলা সাংসদের সংখ্য়া এত কম কেন? রেখা গুপ্তের মতো &lsquo;অর্ধেক মুখ্যমন্ত্রী&rsquo; ছাড়া, আর কোনও বিজেপি শাসিত রাজ্যে কেন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী নেই? RSS-এ মহিলা প্রতিনিধিত্বের অভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অখিলেশ।</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">তৃণমূলের তরফে এদিন কথা বলতে ওঠেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি সরাসরি ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি করেন। জানান, মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ দিলে তবেই বিলে সমর্থন জানাবে তৃণমূল। জুন মালিয়াও এদিন ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি তোলেন। রাজনৈতিক স্বার্থেই তাড়াহুড়ো করে বিজেপি প্রস্তাব পাস করাতে চাইছে বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা।</span></p>

from india https://ift.tt/xwGVsqi
via IFTTT

Post a Comment

0 Comments

Lok Sabha Seat Increase : বাড়ছে লোকসভার আসন সংখ্যা ? মহিলাদের জন্য বরাদ্দ কত সিট, কোন রাজ্যেই বা কত আসন বাড়তে পারে