<p><strong>কলকাতা:</strong> মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা চলাকালীন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লোকসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধীরা যে আপত্তি করছেন, তা তাঁদের রাজনৈতিক কৌশল বলে দাবি করেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি রাজনৈতিক ভাবে লাভবান হতে পারেন জেনেই বিরোধীরা আপত্তি করছেন বলেও মন্তব্য করেন মোদি। সেই সময় কল্যাণের তরফে বিরোধিতা করা হলে, তাঁর উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়ে দেন। (Narendra Modi-Kalyan Banerjee)</p> <p>বুধবার সংসদে তিনটি বিল পেশ করেছে কেন্দ্র, যার মধ্যে লোকসভার আসনবৃদ্ধি, লোকসভা এবং বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাবও রয়েছে। ২০২৩ সালে যখন মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রথম বার বিল আনা হয়েছিল, সেই সময় বিরোধীরাও সেই বিলে সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন করে সীমানা পুনর্বিন্যাস, লোকসভার আসনবৃদ্ধির সঙ্গে যেভাবে মহিলা সংরক্ষণকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আপত্তি বিরোধীদের। (Women Reservation Bill)</p> <p>সেই আবহেই এদিন লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে কথা বলতে ওঠেন মোদি। বিরোধীদের আক্রমণ করতে গিয়ে বলেন, "ভারতে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের সময় যাঁরা এর বিরোধিতা করেছেন, তাঁদের মানুষ যোগ্য জবাব দিয়েছে। যাঁরা এর নেপথ্যে রাজনীতি দেখছেন, গত ৩০ বছরে তাঁরা বুঝতে পেরেছে তাঁদের কী হয়েছে। যাঁরা আজ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে, তাঁদের এর মাসুল দিতে হবে।"</p> <p>তিনি রাজনৈতিক ভাবে লাভবান হতে পারে ভেবেই অনেকে বিলের বিরোধিতা করছে বলেও মন্তব্য করেন মোদি। এতে তাঁর রাজনৈতিক স্বার্থ দেখছেন অনেকে। এতে উল্টোদিক থেকে কল্যাণকে বলতে শোনা যায়, "হ্যাঁ, আছেই তো।" নির্বাচন চলাকালীন বিশেষ অধিবেশন ডেকে আসন পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। সেই নিয়ে বিজেপি-র তরফে আপত্তি জানানো হলে ব্যঙ্গাত্মক সুরে মোদি বলেন, "আরে ভাই। ওঁকে বলতে দিন। ওখানে বেচারার মুখে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে। বাংলায় ওঁকে কেউ বলতে দেন না।" এর পর মোদি এবং বিজেপির সাংসদরা হাসতে শুরু করেন।</p> <p>এতে আসন থেকে উঠে মোদিকে আক্রমণ করতে শুরু করেন কল্যাণ। তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন স্পিকার ওম বিড়লা। এর পর মোদিকে বলতে শোনা যায়, "এর বিরোধিতা করলে স্বাভাবিক ভাবেই আমার রাজনৈতিক লাভ হবে। একজোট হলে কারও ক্ষতি হবে না।" যদিও বিরোধী শিবিরের রাজনীতিকদের পাশাপাশি, বিশেষজ্ঞরাও বিলের সমালোচনা করছেন। আইন তো আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল, তাহলে এতদিন কেন মোদি সরকার তা কার্যকর করল না, প্রশ্ন তুলছেন সকলে। দক্ষিণ ভারত এবং অন্য রাজ্যগুলির উপর উত্তর ভারতের রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম করতেই মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করছে বলে মত তাঁদের।</p> <p> </p>
from india https://ift.tt/g8bnsGD
via IFTTT
0 Comments