<p><strong>নয়াদিল্লি:</strong> ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে আমেরিকার কোনও ভূমিকা ছিল না। বরং দুই দেশের মধ্য়ে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার জেরেই শান্তি ফিরেছে। পারস্পরিক সম্মতিতেই সামরিক অভিঘাত থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত ও পাকিস্তান। Operation Sindoor এবং তার পরবর্তী যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটিকে এমনটাই জানালেন বিদেশমন্ত্রকের সচিব বিক্রম মিস্রী। (India-Pakistan Conflict)</p> <p>গোড়াতেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ভারত এবং পাকিস্তানের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে, নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন। জানান, আমেরিকার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের 'জুজু' দেখাতেই দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। (India-Pakistan Tensions)</p> <p>ট্রাম্পের সেই দাবি নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হতে সময় লাগেনি। আমেরিকার কথায় ভারত কেন পিছিয়ে এল, সেই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে প্রায় সব মহল থেকেই। শুধু তাই নয়, ভারত সরকারকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করতে না দিয়ে, ট্রাম্প কেন সেই ঘোষণা করলেন, প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। এমনকি আগ বাড়িয়ে ট্রাম্প কাশ্মীর সমস্যায় কেন হস্তক্ষেপ করতে চাইছেন, ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কেন তৃতীয় পক্ষের এই খবরদারি বরদাস্ত করা হচ্ছে, এমন একাধিক প্রশ্নে লাগাতার জেরবার হতে হচ্ছিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে। </p> <p>আর সেই আবহেই সোমবার দিল্লিতে সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক বসে। কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ <a title="অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়" href="https://ift.tt/RKaMSrJ" data-type="interlinkingkeywords">অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়</a>, কংগ্রেসের রাজীব শুক্ল, AIMIM নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি, বিজেপি-র অপরাজিতা সারঙ্গি, অরুণ গোহিল। সেখানেই Operation Sindoor এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ তথ্য তুলে ধরেন বিদেশসচিব মিস্রী। </p> <p>দিল্লি সূত্রে খবর, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন বিদেশসচিব মিস্রী। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, কমপক্ষে সাত বার ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করেছেন ট্রাম্প। ভারত এখনও কেন নীরব? কেন ট্রাম্পকে এই ভাষ্য ছড়াতে দেওয়া হচ্ছে? কাশ্মীর সমস্যা নিয়েই বা কেন নাক গলাতে দেওয়া হচ্ছে ট্রাম্পকে? জবাবে বিদেশসচিব জানান, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি একটি দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্ত। তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা ছিল না তাতে। দিল্লি সূত্রে খবর, বিদশসচিব মিস্রী জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের আলোচনার অংশ ছিল না ভারত, আবার আমেরিকা কেন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করল, তাতেও কোনও ভূমিকা নেই ভারতের। </p> <p>ভারত ও পাকিস্তান, দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি না হলে, ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসতে পারত বলেও বার বার দাবি করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটিকে বিদেশসচিব মিস্রী জানিয়েছেন, ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাত প্রচলিত যুদ্ধরীতির মধ্যেই সীমিত ছিল। পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের কথা ভাবছে বলে কোনও ইঙ্গিতও মেলেনি। বরং ১০ মে দুই দেশের DGMO-দের বৈঠকেসামরিক অভিঘাত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। </p> <p>পাকিস্তান যেভাবে চিনা যুদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে, সেই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলে, বিদেশ সচিব মিস্রী বলেন, "ওরা কী ব্যবহার করেছে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা যে ওদের বিমানঘাঁটিতে আঘাত হেনেছি, তা গুরুত্বপূর্ণ।" কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত পরিস্থিতিতে ভারতের তরফে কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কয়টি যুদ্ধবিমান হারিয়েছে বিমান, বিরোধীদের এই প্রশ্নের জবাব দেননি বিদেশসচিব মিস্রী। Operation Sindoor অভিযানের শুরুতে পাকিস্তানকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের যে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো কাম্য নয় বলেও জানান বিদেশসচিব। </p>
from india https://ift.tt/4olBcvD
via IFTTT
0 Comments